জনপ্রিয় বাংলা নাটকের গানের Lyrics | Bangla Popular Natok Song Lyrics

জনপ্রিয় বাংলা নাটকের গানের Lyrics

Bangla Popular Natok Song Lyrics

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর


অজানা সুর

অজানা সুর কে দিয়ে যায় কানে কানে,
ভাবনা আমার যায় ভেসে যায় গানে গানে।
বিস্মৃত জন্মের ছায়ালোকে
হারিয়ে-যাওয়া বীণার শোকে
কেঁদে ফিরে পথহারা রাগিণী।
কোন্‌ বসন্তের মিলনরাতে তারার পানে
ভাবনা আমার যায় ভেসে যায় গানে গানে॥

আজ যেমন করে

আজ যেমন করে গাইছে আকাশ
তেমন করে গাও গো।
যেমন করে চাইছে আকাশ
তেমনি করে চাও গো।

আজ হাওয়া যেমন পাতায় পাতায়
মর্মরিয়া বনকে কাঁদায়,
তেমনি আমার বুকের মাঝে
কাঁদিয়া কাঁদাও গো।

আমরা চাষ করি

আমরা চাষ করি আনন্দে।
মাঠে মাঠে বেলা কাটে সকাল হতে সন্ধে।
রৌদ্র ওঠে, বৃষ্টি পড়ে বাঁশের বনে পাতা নড়ে,
বাতাস ওঠে ভরে ভরে চষা মাটির গন্ধে।
সবুজ প্রাণের গানের লেখা রেখায় রেখায় দেয় রে দেখা,
মাতে রে কোন্‌ তরুণ কবি নৃত্যদোদুল ছন্দে।
ধানের শিষে পুলক ছোটে সকল ধরা হেসে ওঠে,
অঘ্রানেরি সোনার রোদে পূর্ণিমারই চন্দ্রে।

আমরা নূতন যৌবনেরই দূত

আমরা নূতন যৌবনেরই দূত,
আমরা চঞ্চল, আমরা অদ্ভুত।
আমরা বেড়া ভাঙি,
আমরা অশোকবনের রাঙা নেশায় রাঙি,
ঝঞ্ঝার বন্ধন ছিন্ন করে দিই,
আমরা বিদ্যুৎ।
আমরা করি ভুল।
অগাধ জলে ঝাঁপ দিয়ে
যুঝিয়ে পাই কূল।
যেখানে ডাক পড়ে
জীবন-মরণ-ঝড়ে
আমরা প্রস্তুত॥

আমার জীবনপাত্র উচ্ছলিয়া

আমার জীবনপাত্র উচ্ছলিয়া মাধুরি করেছ দান-
তুমি জান নাই, তুমি জান নাই,
তুমি জান নাই তার মূল্যের পরিমাণ ।
রজনীগন্ধা অগোচরে
যেমন রজনী স্বপনে ভরে সৌরভে,
তুমি জান নাই, তুমি জান নাই,
তুমি জান নাই, মরমে আমার ঢেলেছ তোমার গান ।।
বিদায় নেবার সময় এবার হল-
প্রসন্ন মুখ তোলো, মুখ তোলো, মুখ তোলো-
মধুর মরণে পূর্ণ করিয়া সঁপিয়া যাব প্রাণ চরণে ।
যারে জান নাই, যারে জান নাই, যারে জান নাই
তার গোপন ব্যথার নীরব রাত্রি হোক আজি অবসান ।।

আমার মন বলে

আমার মন বলে, ‘চাই চাই গো
যারে নাহি পাই গো।’
সকল পাওয়ার মাঝে
আমার মনে বেদন বাজে,
‘নাই নাই নাই গো।’
হারিয়ে যেতে হবে,
ফিরিয়ে পাব তবে,
সন্ধ্যাতারা যায় যে চলে
ভোরের তারায় জাগবে ব’লে,
বলে সে, ‘যাই যাই যাই গো।’

জনপ্রিয় লিরিক্স:  Tomar Jonno Lyrics | তোমার জন্য

আমার রাত পোহালো

আমার রাত পোহালো শারদ প্রাতে ।
বাঁশি, তোমায় দিয়ে যাব কাহার হাতে ।।
তোমার বুকে বাজল ধ্বনি
বিদায়গাথা আগমনী কত যে-
ফাল্গুনে শ্রাবণে কত প্রভাতে রাতে ।।
যে কথা রয় প্রাণের ভিতর অগোচরে
গানে গানে নিয়েছিল চুরি ক’রে ।
সময় যে তার হল গত
নিশিশেষের তারার মতো,
তারে শেষ করে দাও শিউলিফুলের মরণ-সাথে ।।

এলেম নতুন দেশে

এলেম নতুন দেশে ।
তলায় গেল ভগ্ন তরী, কূলে এলেম ভেসে ।
অচিন মনের ভাষা
শোনাবে অপূর্ব কোন্‌ আশা
বোনাবে বঙিন সুতোয় দুঃখসুখের জাল,
বাজবে প্রাণে নতুন গানের তাল,
নতুন বেদনায় ফিরব কেঁদে হেসে ।
নাম-না জানা প্রিয়া
নাম-না-জানা ফুলের মালা নিয়া
হিয়ায় দেবে হিয়া ।
যৌবনেরই নবোচ্ছাসে
ফাগুনমাসে
বাজবে নূপুর ঘাসে ঘাসে,
মাতবে দখিনবায়
মঞ্জরিত লবঙ্গতায়
চঞ্চলিত এলোকেশে ।।

ও চাঁদ

ও চাঁদ, চোখের জলের লাগল জোয়ার দুখের পারাবারে,
হল কানায় কানায় কানাকানি এই পারে ওই পারে।
আমার তরী ছিল চেনার কূলে, বাঁধন তাহার গেল খুলে,
তারে হাওয়ায় হাওয়ায় নিয়ে গেল কোন্‌ অচেনার ধারে।

খর বায়ু বয় বেগে

খর বায়ু বয় বেগে,
চারি দিক ছায় মেঘে,
ওগো নেয়ে, নাওখানি বাইয়ো।
তুমি কষে ধরো হাল,
আমি তুলে বাঁধি পাল—
হাঁই মারো, মারো টান হাঁইয়ো।
শৃঙ্খলে বারবার
ঝন্‌ঝন্‌ ঝংকার,
নয় এ তো তরণীর ক্রন্দন শঙ্কার—
বন্ধন দুর্বার
সহ্য না হয় আর,
টলমল করে আজ তাই ও।
হাঁই মারো, মারো টান হাঁইয়ো।
গণি গণি দিন খন
চঞ্চল করি মন
বোলো না, যাই কি নাহি যাই রে।
সংশয়পারাবার
অন্তরে হবে পার,
উদ্‌‍বেগে তাকায়ো না বাইরে।
যদি মাতে মহাকাল,
উদ্দাম জটাজাল
ঝড়ে হয় লুণ্ঠিত, ঢেউ উঠে উত্তাল,
হোয়ো নাকো কুণ্ঠিত,
তালে তার দিয়ো তাল,
জয়-জয় জয়গান গাইয়ো।
হাঁই মারো, মারো টান হাঁইয়ো।

গোপন কথাটি

পত্রলেখা। গোপন কথাটি রবে না গোপনে,
উঠিল ফুটিয়া নীরব নয়নে—
রাজপুত্র। না না না, রবে না গোপনে।
বিভল হাসিতে
বাজিল বাঁশিতে,
স্ফুরিল অধরে নিভৃত স্বপনে—
রাজপুত্র। না না না, রবে না গোপনে।
পত্রলেখা। মধুপ গুঞ্জরিল,
মধুর বেদনায় আলোক-পিয়াসি
অশোক মুঞ্জরিল।
হৃদয়শতদল
করিছে টলমল
অরুণ প্রভাতে করুণ তপনে—
রাজপুত্র। না না না, রবে না গোপনে॥

ঘরেতে ভ্রমর এল

ঘরেতে ভ্রমর এল গুন্‌গুনিয়ে।
আমারে কার কথা সে যায় শুনিয়ে।
আলোতে কোন্‌ গগনে মাধবী জাগল বনে,

এল সেই ফুল – জাগানোর খবর নিয়ে।
সারাদিন সেই কথা সে যায় শুনিয়ে।
কেমনে রহি ঘরে, মন যে কেমন করে,
কেমনে কাটে যে দিন দিন গুনিয়ে।
কী মায়া দেয় বুলায়ে, দিল সব কাজ ভুলায়ে,
বেলা যায় গানের সুরে জাল বুনিয়ে।

জনপ্রিয় লিরিক্স:  একটা যুদ্ধ রক্ত দিয়ে Lyrics | Ekta Juddho Rokto Diye Lyrics

তারে দেখাতে পারি নে

তারে দেখাতে পারি নে কেন প্রাণ খুলে গো।
কেন বুঝাতে পারি নে হৃদয়বেদনা।।
কেমনে সে হেসে চলে যায়,
কোন্‌ প্রাণে ফিরেও না চায়,
এত সাধ এত প্রেম করে অপমান।।
এত ব্যথাভরা ভালোবাসা কেহ দেখে না-
প্রাণে গোপনে রহিল।
এ প্রেম কুসুম যদি হত
প্রাণ হতে ছিঁড়ে লইতাম,
তার চরণে করিতাম দান।
বুঝি সে নিত না, শুকাত অনাদরে-
তবু তার সংশয় হত অবসান।।

তুমি ডাক দিয়েছ

তুমি ডাক দিয়েছ কোন্‌ সকালে
কেউ তা জানে না,
আমার মন যে কাঁদে আপন-মনে,
কেউ তা মানে না।
ফিরি আমি উদাস-প্রাণে,
তাকাই সবার মুখের পানে,
তোমার মতন এমন টানে
কেউ তো টানে না।

পঞ্চক।  বেজে ওঠে পঞ্চমে স্বর,
কেঁপে ওঠে বন্ধ এ ঘর,
বাহির হতে দুয়ারে কর
কেউ তো হানে না।

আকাশে কার ব্যাকুলতা,
বাতাস বহে কার বারতা,
এ পথে সেই গোপন কথা
কেউ তো আনে না।

তোমায় গান শোনাব

তোমায় গান শোনাব তাই তো আমায় জাগিয়ে রাখ
ওগো ঘুমভাঙানিয়া!
বুকে চমক দিয়ে তাই তো ডাক
ওগো দুখজাগানিয়া!
এল আঁধার ঘিরে,
পাখি এল নীড়ে,
তরী এল তীরে,
শুধু আমার হিয়া বিরাম পায় নাকো
ওগো দুখজাগানিয়া!

আমার কাজের মাঝে মাঝে
কান্নাধারার দোলা তুমি থামতে দিলে না যে।
আমায় পরশ ক’রে
প্রাণ সুধায় ভ’রে
তুমি যাও যে সরে,
বুঝি আমার ব্যথার আড়ালেতে দাঁড়িয়ে থাকো
ওগো দুখজাগানিয়া!

দূরে কোথায়

দূরে কোথায় দূরে দূরে
মন বেড়ায় গো ঘুরে ঘুরে
যে বাঁশিতে বাতাস কাঁদে
সেই বাঁশিটির সুরে সুরে।

যে পথ সকল দেশ পারায়ে
উদাস হয়ে যায় হারায়ে,
সে পথ বেয়ে কাঙাল পরান
যেতে চায় কোন্‌ অচিন পুরে।

পৌষ তোদের ডাক দিয়েছে

পৌষ তোদের ডাক দিয়েছে – আয় রে চলে,
আয় আয় আয়।
ডালা যে তার ভরেছে আজ পাকা ফসলে,
মরি, হায় হায় হায়।
দেখছ না, পৌষের রোদ্দুর পাকা ধানের লাবণ্য আকাশে মেলে দিচ্ছে?

হাওয়ার নেশায় উঠল মেতে
দিগ্‌বধূরা ধানের খেতে,
রোদের সোনা ছড়িয়ে পড়ে মাটির আঁচলে –
মরি, হায় হায় হায়।
তুমিও বেরিয়ে এসো রাজা, তোমাকে মাঠে নিয়ে যাই।

মাঠের বাঁশি শুনে শুনে আকাশ খুশি হল –
ঘরেতে আজ কে রবে গো। খোলো দুয়ার খোলো।

বাঁধ ভেঙে দাও

বাঁধ ভেঙে দাও, বাঁধ ভেঙে দাও,
বাঁধ ভেঙে দাও।
বন্দী প্রাণমন হোক উধাও।
শুকনো গাঙে আসুক
জীবনের বন্যার উদ্দাম কৌতুক ;
ভাঙনের জয়গান গাও।
জীর্ণ পুরাতন যাক ভেসে যাক,
যাক ভেসে যাক, যাক ভেসে যাক।
আমরা শুনেছি ওই
‘ মাভৈঃ মাভৈঃ মাভৈঃ’
কোন্‌ নূতনেরই ডাক।
ভয় করি না অজানারে,
রুদ্ধ তাহারি দ্বারে
দুর্দাড় বেগে ধাও॥

জনপ্রিয় লিরিক্স:  এই তো হেথায় কুঞ্জ ছায়ায় | Ei To Hethay Kunjo Chayay | Key Lyrics

ভালোবাসি

‘ভালোবাসি ভালোবাসি’
এই সুরে কাছে দূরে জলেস্থলে বাজায় বাঁশি।
আকাশে কার বুকের মাঝে
ব্যথা বাজে,
দিগন্তে কার কালো আঁখি আঁখির জলে যায় গো ভাসি।

সেই সুরে সাগরকূলে
বাঁধন খুলে
অতল রোদন উঠে দুলে।
সেই সুরে বাজে মনে
অকারণে
ভুলে-যাওয়া গানের বাণী, ভোলা দিনের কাঁদন হাসি।

ভালোবেসে যদি সুখ নাহি

ভালোবেসে যদি সুখ নাহি
তবে কেন-
তবে কেন মিছে ভালোবাসা ।
মন দিয়ে মন পেতে চাহি ।
ওগো, কেন-
ওগো, কেন মিছে এ দুরাশা ।।
হৃদয়ে জ্বালায়ে বাসনার শিখা,
নয়নে সাজায়ে মায়ামরীচিকা,
শুধু ঘুরে মরি মরুভূমে ।
ওগো, কেন-
ওগো, কেন মিছে এ পিপাসা ।।
আপনি যে আছে আপনার কাছে
নিখিল জগতে কী অভাব আছে ।
আছে মন্দ সমীরণ, পুষ্পবিভুষণ,
কোকিলকুজিত কুঞ্জ ।
বিশ্বচরাচর লুপ্ত হয়ে যায়,
একি ঘোর প্রেম অন্ধ রাহুপ্রায়
জীবন যৌবন গ্রাসে ।
তবে কেন-
তবে কেন মিছে এ কুয়াশা ।।

যা হবার তা হবে

যা হবার তা হবে।
যে আমাকে কাঁদায় সে কি অমনি ছেড়ে রবে।
পথ হতে যে ভুলিয়ে আনে, পথ যে কোথায় সেই তা জানে,
ঘর যে ছাড়ায় হাত সে বাড়ায় সেই তো ঘরে লবে।

হারে রে রে রে রে

হারে রে রে রে রে—
আমায় ছেড়ে দে রে দে রে।
যেমন ছাড়া বনের পাখি
মনের আনন্দে রে।
ঘন শ্রাবণধারা
যেমন বাঁধনহারা
বাদল বাতাস যেমন ডাকাত
আকাশ লুটে ফেরে।

হারে রে রে রে রে
আমায় রাখবে ধরে কে রে।
দাবানলের নাচন যেমন
সকল কানন ঘেরে।
বজ্র যেমন বেগে
গর্জে ঝড়ের মেঘে
অট্টহাস্যে সকল বিঘ্নবাধার বক্ষ চেরে।



দ্বিজেন্দ্রলাল রায়



ঐ মহাসিন্ধুর ওপার থেকে

ঐ মহাসিন্ধুর ওপার থেকে
কি সঙ্গীত ভেসে আসে,
কে ডাকে কাতর প্রাণে, মধুর তানে
আয় চলে আয়,
ওরে, আয় চলে আয় আমার পাশে।

বলে আয়রে ছুটে, আয়রে ত্বরা
হেথা নাইকো মৃত্যু, নাইকো জরা,
হেথা বাতাস গীতি-গন্ধভরা
চির- স্নিগ্ধ মধুমাসে,
হেথা চির-শ্যামল বসুন্ধরা
চির- জ্যোৎস্না নীল আকাশে।

কেন ভুতের বোঝা বহিস পিছে
ভুতের বেগার খেটে মরিস মিছে,
দেখ ঐ সুধাসিন্ধু উথলিছে
পূর্ণ ইন্দু পরকাশে,
ভুতের বোঝা ফেলে ঘরের ছেলে
আয় চলে আয় আমার পাশে।

কেন কারাগৃহে আছিস বন্ধ
ওরে, ওরে মূঢ়, ওরে অন্ধ,
ভবে সেই সে পরমানন্দ
যে আমারে ভালবাসে
কেন ঘরের ছেলে পরের কাছে
পড়ে আছিস পরবাসে।



অন্যান্য


কথা বোলো না

কথা বোলো না
কেউ শব্দ কোরো না,
ভগবান নিদ্রা গিয়েছেন
গোলযোগ সইতে পারেন না।

একদা ঊষাকালে মজিয়া লীলাছলে
ভগবান বিশ্ব গড়িলেন,
কালে কালে জীর্ণ হলো
বাগানগুলো শুকিয়ে এলো,
ভগবান জমিদারি দেখতে পারেন না।

ভগবান ছানাপোনা
দেবতা আছেন নানাজনা,
আয়েসে ফুর্তি ক’রে
ফ্যাট gather করেছেন।

সব হেলেদুলে চলে
টলমল করে,
অকাজের গোঁসাই তাঁরা
কেউ কাজের বেলায় না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *